জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারব। তিনি বলেন, আমরা সম্মানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করব।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
দুর্নীতি ও দুঃশাসন মুক্ত ইনসাফের দেশ গড়তে ১১ দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের হাতেই পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি বলেন, জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। সেখান থেকে মুক্তির জন্য।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তরুণদের নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে পারিবারিক পরিচয় নিয়ে দেশের পরিচালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ বানাতে চাই যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার। সরকার হবে জনগণের।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন দেশ চাই যেখানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়ার সুযোগ থাকবে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত আবরার ফাহাদ, আবু সাইদ মুগ্ধ ওসমান হাদি ও তাদের সহযোদ্ধারা দেখিয়েছে। এই দেশ সময়ের সাহসী সন্তানদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারাই এ দেশের ভবিষ্যৎ রচনা করবে।
গণভোটের বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, জনগণ চায় নিরাপত্তা, সুশাসন, ইনসাফ। বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার আর মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে। সংস্কার প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৪, ১৮, ২৪ সালে নির্বাচনের নামে তামাশা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এসব নিপীড়িন এবং অধিকার ফিরে পেতে রক্তাক্ত জুলাই আসে। তরুণরা নতুন দেশ দেখতে চায়। দেশের মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তন বিরোধী। কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্ম বন্ধ হবে।
ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের শাসকশ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মালিক মনে করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ পদ-পদবি সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে।
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান।
প্রবাসীদের জন্যও সুখবর দিয়েছেন জামায়াত আমির। প্রবাসীদের মধ্য থেকে সংসদে জনপ্রতিনিধি দেওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া বিদেশে কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে তার লাশ সরকার কাঁধে করে নিয়ে আসবে বলেও জানান জামায়াত আমির।