ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ সংসদে পাস হয়েছে। এতে নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সর্বসম্মতভাবে সংসদে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও সংশোধন ও কঠোর করা হচ্ছে। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
সংসদে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়াও অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের কোনো কার্যক্রম প্রচার করা যাবে না। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলকে অর্থ, আশ্রয় বা সহায়তা করলে কঠোর শাস্তির বিধান বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে, বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র জনতার দাবির মুখে ২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’ জারি করে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
এই অধ্যাদেশের বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশতম দিনে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় এই বিলকে সেন্সিটিভ উল্লেখ করে আলোচনার জন্য সময় চান বিরোধী দলীয় নেতা। তবে স্পিকার জানান, আপত্তির সময় পার হওয়ায় তা আর সম্ভব নয়।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জামায়াত এবং এনসিপির দাবির মুখে এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এটি তারই বিল। এসময় সর্বসম্মতভাবে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এদিন, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিলসহ আরও ৪টি বিল পাশ হয়।
সংসদের বিরতিতে চিফ হুইপ জানান, এখন পর্যন্ত ৪৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। শুক্রবারেও চলবে অধিবেশন। সেদিনের মধ্যেই সুরাহা হবে বাকি অধ্যাদেশের।