ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে ১১তম কমিশন সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ৮ এপ্রিল। এছাড়া ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত শিডিউল জানানো হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সর্বোচ্চ ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে জামায়াত-এনসিপি জোট পাচ্ছে ১৩টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৬ প্রার্থী জোটে থাকছে একটি আসন।
আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেরপুরে মোট ১২৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া বগুড়ায় কেন্দ্র রয়েছে ১৫১টি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনোরকম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করে আসছে। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে পৌনে তিন ঘণ্টা ধরে নির্বাচন নিয়ে সভা হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটকে সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরকে প্রথমে চিঠি দেয় ইসি। সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে কি-না, সেই বিষয়ে ইসিকে সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। এই সময়সীমা ৫ এপ্রিল শেষ হয়।
এই সময় শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা তাদের জোটগত অবস্থান সম্পর্কে কমিশনকে চিঠি দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামসহ সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করে ইসি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৯টি দল আসন পায়, বাকি ৪১টি দলের মধ্যে জাতীয় পার্টিও রয়েছে। তবে এই দলগুলো কোনো আসন পায়নি।
আইন অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন ৩০০ সাধারণ আসনের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। কোনো দল বা জোট কত আসন পেয়েছে তার অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণ হয়। এই হিসেবে বিএনপি পাবে ৩৬টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট করলে ২টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। তবে ছোট দলগুলো জোট না করলে কোনো আসন পাবে না।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এই আইন অনুযায়ী মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। এছাড়া গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দল ও জোটভিত্তিক সদস্যদের পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হয়।