মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের দোকানপাট, শপিংমল ও বিপণি বিতান সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ৩ মাসের চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি তেল সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে সন্ধ্যা ৬টা নয়, শপিং মল বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুদ আছে। প্রায় তিন মাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ রয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানির ভালো কিছু উৎস পেয়েছেন বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে স্যাংশন ওয়েভার দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির সুযোগ দেবে।
কৃষকদের তেল পেতে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ভাবে তা সমাধানে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তেল সরবরাহে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।