ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
এর আগে সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এর আগে বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাবনায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেষ্ঠ্য নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি স্পিকার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
এরপর ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ অধিবেশনে কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন নাটোরের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এই প্রস্তাব সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদের সামনে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি পেশ করেন। পরে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে কায়সার কামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
এর আগে, এবারের মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন কায়সার কামাল।
এদিকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক বীর বিক্রম লাভ করেন। তরুণ বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন এবং ১৯৬৪ সাল থেকে পরপর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবে পরিচিতি পান।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয়ী হন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
৮১ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং এবার সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিক নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার, চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।