ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২৪ জন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরষিদ সচিব নাসিমুল গণি। পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শপথ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিভিন্ন দেশের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন সরকারে শপথ নেন তারেক রহমানসহ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। শপথের পর বৈঠকে বসেন তারা।
এরই মধ্যে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
মন্ত্রীসভার কে কোন দায়িত্ব পেলেন দেখে নিন:
পূর্ণমন্ত্রী হলেন যারা-
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (এমপি) – স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (এমপি)– অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ (এমপি)– স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (এমপি)– বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৫. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (এমপি)– মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৬. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন (এমপি)– মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৭. ডঃ খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) (এমপি)– সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৮. আব্দুল আউয়াল মিন্টু (এমপি) – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (এমপি) – ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০. মিজানুর রহমান মিনু (এমপি)– ভূমি মন্ত্রণালয়
১১. নিতাই রায় চৌধুরী (এমপি)– সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১২. আ ন ম এহসানুল হকি মিলন (এমপি)- শিক্ষা মন্ত্রণালয়
১৩. সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (এমপি)- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৪. ফকির মাহবুব আনাম (এমপি)- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
১৫. শেখ রবিউল আলম (এমপি)- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
১৬. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (এমপি)– বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
১৭. আরিফুল হক চৌধুরী (এমপি)– শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৮. জহির উদ্দিন স্বপন (এমপি)– তথ্য, সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৯. মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) (এমপি)– কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
২০. আফরোজা খানম রিতা (এমপি)– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২১. মোঃ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (এমপি)– পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
২২. আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি)– দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
২৩. মোঃ আসাদুজ্জামান (এমপি)– আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২৪. জাকারিয়া তাহের (এমপি)– গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২৫. দীপেন দেওয়ান (এমপি) – পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা-
১. এম রশিদুজজামান মিল্লাত (এমপি)- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি)- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৩. মো. শরীফুল আলম (এমপি)- বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম (এমপি)- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) -কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
৬. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) - ভূমি মন্ত্রণালয়
৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি)- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
৮. মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
৯. মো. নুরুল হক নুর (এমপি)- শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১০. ইয়াসের খান চৌধুরী (এমপি)- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১১. এম ইকবাল হোসেইন (এমপি)- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১২ . এম এ মুহিত (এমপি)- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৩. আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুর (এমপি)- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
১৪. ববি হাজ্জাজ (এমপি)- শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
১৫. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (এমপি)- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৬. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (এমপি)- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৭. হাবিবুর রশিদ (এমপি)- সড়ক পরিবহন ও সেতু ও মো. রাজিব আহসান (এমপি)- রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়
১৮. মো. আব্দুল বারী (এমপি)- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
১৯. মীর শাহ আলম (এমপি)- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২০. মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (টেকনোক্র্যাট)- অর্থ, পরিকল্পনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
২১. ইশরাক হোসেন (এমপি)- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২২. ফারজানা শারমীন (এমপি) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৩. শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি)- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্ম বিষয়ক এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়।
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।