মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয়

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ ঘিরে সম্পন্ন হয়েছে সকল প্রস্তুতি।
 
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এ অনুষ্ঠান। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।’
 
বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
 
আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
 
এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলংকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা  
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
 
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের হাল ধরবেন।
 
এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, ‘নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।’
 
তিনি আরো জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সংসদ সচিবালয়।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
 
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন।
 
রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। 
 
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
 
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
 
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে।
 
এই নির্বাচনে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
 
জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছে।
 
 

এই সম্পর্কিত আরো