রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয়

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পড়াবেন বলেও জানান তিনি।
 
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের এ কথা বলন তিনি।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার অতিথিকে নিমন্ত্রণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’
 
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ ১৭ তারিখ না ১৮ তারিখ? কোন দিন ধরে কাজ করছেন- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা তো বলতে পারছি না। বললাম তো, যদি আমাদের নির্দেশ দেয়া হয় বা ইন্ডিকেট করা হয় যে অমুক তারিখে অমুক সময়ে হবে, আমরা সেই মোতাবেক কাজ করবো। সেটা ইভেন কালকে হলেও কালকে কাজ করতে হবে। দুইদিন পরে হলে দুদিন পরের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। জানার পরে সেটা বলতে পারবো, তার আগে কোনো তারিখ না।’
 
মন্ত্রিসভার সদস্য কতজন হবেন- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেটা নির্ভর করে যিনি সংসদ নেতা, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা তার ইচ্ছা। উনি কতজনকে মন্ত্রী হিসেবে এখন দেখতে চান বা পরে দেখতে চান।’
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের গেজেট নোটিফাইড হয়েছে। জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনদিন সময়ের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণও হয় সংসদ সদস্য হিসেবে। সেটি এই তিনদিন সময় আগামীকাল থেকে শুরু করে ১৫, ১৬ আর ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ধরতে পারি, কারণ কর্মদিবস আগামীকাল থেকে।’
 
তিনি বলেন, ‘এই ১৭ তারিখের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হবে। এই শপথ গ্রহণের পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন এবং এই যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তখন এই ঘটনাটি জানিয়ে দিবেন যে, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য অফার করবেন বা নিয়োগ দান করবেন।’
 
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
 
২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গেজেট হয়েছে ২৯৭ আসনের। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেয়া হবে। এ ছাড়া জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
 
এছাড়া গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ‎মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোট প্রদানের হার ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ আর না ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। ভোট বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
 
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়।  গতকাল শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
 
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন।
 
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো