কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : অপারেশন ডেভিল হান্টের অভিযানে রাঘববোয়াল-চুনোপুঁটি কেউ ছাড় পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, যতদিন দেশ শয়তান মুক্ত না হবে ততদিন অপারেশন ডেভেল হান্ট চলবে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টআ বলেন, যারা শয়তান, তারাই ডেভিল হান্টে ধরা পড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও ছাড় পায়নি। অপারেশন ততদিন চলবে যতোদিন ডেভিল মুক্ত না হবে। অপারেশন ডেভিল হান্টে কোন নির্দোষ ব্যক্তি যেনো শাস্তি না পায়, সেজন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যারা মিথ্যা মামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোন নির্দোষ ব্যক্তি যেন সাজা না পায় তার জন্য সকাল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। যারা মিথ্যা মামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সহনীয় থাকবে, কারণ ডাল, ছোলা, খেজুর ও তেলের সরবরাহ ভালো। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্তিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। সেটি ধরতে মিডিয়ার সহযোগিতা চান তিনি।
দেশে সারের কোনো সংকট নাই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কিছু ডিলার শয়তানী করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচুর সার মজুদ রয়েছে কোন সংকট হবে না।
সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ যে ভূমিকায় ছিল তাতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এতে খুশি, তবে আইন যেনো কেউ হাতে তুলে না নেয়।’
তিনি বলেন, ‘আগে ভারতীয় মিডিয়া অনেক গুজব ছড়িয়েছে। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো সেটি প্রতিহত করেছে। তাদের গুজবে আমাদের দেশের মিডিয়া কান দেয়নি।’
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এগার পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ মারুফুর রহমান, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইমরান ইবনে রউফ, র্যাব ৫ এর অধিনায়ক মেজর মাসুদ হায়দার, বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার আজীম আহমেদ, ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও আনসার ও ভিডিপি, কারা অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থার রাজশাহী অঞ্চলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।