শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
1st Quarter Financial Statements of Shinepukur Ceramics Ltd. নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য - প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু হ্যান্ডহেল্ড গার্মেন্ট স্টিমারসহ নতুন পার্সোনাল কেয়ার ডিভাইস আনল শাওমি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ব্যাংকিং খাতে প্রথম ওয়েবভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করল ইউসিবি ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৭ প্রাণহানি, পলাতক সেই বাসচালক গ্রেফতার আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৭১তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ, সাতকানিয়া থানার ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
advertisement
জাতীয়

নির্বাচন সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিলো কমিশন

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে কমিশন চেয়ারম্যান ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে এ প্রতিবেদন তুলে দেন।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে তার কমিশনের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, নিজেদের প্রতিবেদনে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে তিনটিই বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে অধ্যাপক আলী রীয়াজের কমিশন। সেইসঙ্গে শুধু গণতন্ত্র বহাল রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন আরও চারটি মূলনীতি সংযুক্তিরও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া, সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এবং ‘প্রজাতন্ত্রে’র পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ শব্দ ব্যবহারের সুপারিশও করেছে কমিশন।

বর্তমানে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার যে চার মূলনীতি রয়েছে সেগুলো হল- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে যে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্র পরিচালনার এই চার মূলনীতি গৃহীত হয়েছিল।

বর্তমানের এই চার মূলনীতির মধ্যে শুধু ‘গণতন্ত্র’ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত নতুন পাঁচ মূলনীতির মধ্যে। সঙ্গে নতুন মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও বহুত্ববাদ সংযুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে দুইজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন। একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না। সেগুলো হলো-প্রধানমন্ত্রী, সংসদনেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধান। অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা, অর্থাৎ ফ্লোর ক্রসিংয়ের সুযোগ থাকবে। আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সব সময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন। এছাড়া ২০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

নিম্নকক্ষ সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। ৪০০ আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আর ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সব জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

এছাড়া সংবিধান সংস্কার কমিশনের পাশাপাশি আজ আরও তিন কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনগুলো হলো— নির্বাচন সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন এবং পুলিশ সংস্কার কমিশন।

সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই আলোচনার মাধ্যমে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই আলোচনা হবে বলে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ