আগামী পহেলা ডিসেম্বর থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গেই নতুন কাঠামোর বর্ধিত মজুরি হাতে পাবেন শ্রমিকেরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী। শুরুতে তিনি জানান, গত পহেলা নভেম্বর সরকার পোশাকশিল্পের জন্য নতুন এই মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দ্রুততম সময়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে সুপারিশ প্রণয়ন ও জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

মালিক ও শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য:
সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, "পহেলা ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।" এ সময় সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "উভয় পক্ষের সম্মতিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে শ্রমিকেরা জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গেই বর্ধিত মজুরি পান।"
মজুরি ছাড়াও অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার দাবি:
সভায় কেবল মজুরি নয়, বরং শ্রমিকদের অন্যান্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। শ্রমিক প্রতিনিধিরা শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং ছুটি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়াও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং তাঁদের ওপর নির্যাতন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার আহ্বান:
কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের মজুরি বোর্ডের। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করতে চায়। তাই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন না করে আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো সমস্যা সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী সপ্তাহে মজুরি বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বোর্ড।