বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল মামলার শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার পানির নিচে রেললাইন - চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা সৌদি প্রবাসীর ৭০ হাজার রিয়াল আত্মসাতের অভিযোগ, দেশে ফিরে প্রবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি ইউসিবির ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার অনুমোদন সাড়ে ৩ লাখ মসজিদের দেশ বাংলাদেশ, এক-পঞ্চমাংশই ঢাকায়! কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি রেফারির ওপর ক্ষোভ - ফিফায় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মিশরের
advertisement
জাতীয়

৬ শিশুর মৃত্যু

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

লাইসেন্স বাতিলের পর রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি থাকা রোগীদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ভর্তি রোগীদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। আর প্রয়োজনে রোগী ও তাদের পরিবারের অনুরোধ পেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরও সহায়তা করবে।

হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং নির্ধারিত বিচারিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

এর আগে, বুধবার (১০ জুন) ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাবে সরকার সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ বিষয়ে আলোচনা করে শিগগিরই আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার যে জবাব দিয়েছে তাতে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তারা খুবই অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই অস্পষ্ট রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

হাসপাতালটির দেওয়া জবাবকে ‘ভেক’ (সাজানো বা ভুয়া) উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদুল আজহার আগের দিন গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

প্রতিবেদনে প্রধান যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

অক্সিজেনের ঘাটতি ও বিষাক্ত বাতাস: প্রায় ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ ছিল। কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন বা আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়—যা নবজাতকদের বেঁচে থাকার জন্য অসম্ভব ছিল।

অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা: কক্ষটিতে ১১ জন নবজাতক এবং স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।

চিকিৎসকহীন ওয়ার্ড ও নার্সদের উদাসীনতা: সংকটাপন্ন নবজাতকদের দেখাশোনার জন্য ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা বারবার ডাকলেও দায়িত্বরত সেবিকারা (নার্স) কোনো চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ না করে কালক্ষেপণ করেন।

জরুরি সাড়াদানের অভাব (No Emergency Response): হাসপাতালটিতে কোনো সক্রিয় 'ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স' ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কোনো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি।

অনুপযুক্ত ভবন: তদন্ত কমিটির মতে, পুরো ভবনটিই হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। ছোট ছোট কক্ষ নির্মাণের কারণে ভবনটি এমনিতেই যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার পর গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষর করা এক চিঠির মাধ্যমে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়েছিল।

 

 

 

 

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ