বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
১৪ জুলাই গ্রামীন ফোনের বোর্ড সভা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল মামলার শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার পানির নিচে রেললাইন - চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা সৌদি প্রবাসীর ৭০ হাজার রিয়াল আত্মসাতের অভিযোগ, দেশে ফিরে প্রবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি ইউসিবির ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার অনুমোদন সাড়ে ৩ লাখ মসজিদের দেশ বাংলাদেশ, এক-পঞ্চমাংশই ঢাকায়! কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি
advertisement
জাতীয়

৬ শিশুর মৃত্যু :

আদ্-দ্বীনের জবাবে সরকার সন্তুষ্ট নয়, শিগগিরই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাবে সরকার সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ বিষয়ে আলোচনা করে শিগগিরই আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার যে জবাব দিয়েছে তাতে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তারা খুবই অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই অস্পষ্ট রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

হাসপাতালটির দেওয়া জবাবকে ‘ভেক’ (সাজানো বা ভুয়া) উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল, সেটি নবজাতক কিংবা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য একেবারেই উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল ও অনিয়মিত।

তদন্তে উঠে এসেছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ওই আশঙ্কাজনক সময়ে ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। শিশুদের অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তাদের সময়মতো জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল। প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা না থাকায় তাদের বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ অবস্থা খারাপ হলেও যথাযথ ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসায় চরম ঘাটতি ছিল।

হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির বিষয়টিও তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার পর গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষর করা এক চিঠির মাধ্যমে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়েছিল।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ