ময়মনসিংহ নগরে বাসের চাপায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহতের ঘটনায় স্বজনহারানো পরিবারের পক্ষ থেকে বাসচালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের একই পরিবারের মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারিয়ে শোকাহত মো. মোবারক আলী বাদী হয়ে রাতে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার পর অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে সেটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের বাসটি জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকা পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে বাসের ভেতরে ঢুকে যায়।এ সময় ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান।
নিহত সাতজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। নিহত অন্য তিনজন হলেন একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে প্রেরণ করার পর রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে,স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চলাচলের জন্য প্রায়ই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়।
নিহত মোফাজ্জলের স্বজনদের ভাষ্য, মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ে ও নাতিও তার সঙ্গে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় চারজন একসঙ্গে রওনা হন।
মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন বলেন, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল। প্রায় দুই দশক গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। তারা জামালপুরে গ্রামের বেড়াতে গিয়েছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
শুক্রবার সকালে মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়িতে এলে মেয়ে ও নাতিও সঙ্গে যাওয়ার বায়না ধরে। পরে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে যায় পরিবারের চার সদস্যের শেষ যাত্রা।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, 'খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। তার ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে।