শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট - সংকট উত্তরণ নাকি গতানুগতিকতার বৃত্তে বন্দি? বাবার স্মৃতি বিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা, ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন চলচ্চিত্র পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক ভারতের নতুন হাইকমিশনার - একই আকাশ-বাতাস, একই জল তরঙ্গ, আমরা মিলেমিশে কাজ করব মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু প্যারাগুয়েকে বিধ্বস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, জোড়া গোল বালোগুনের ১৫০ সিসির বেশি বাইক নিবন্ধনে টিআইএন বাধ্যতামূলক ভ্যাটের আওতা বাড়াতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেবে সরকার
advertisement
আইন-আদালত

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম।

এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রাজধানীর আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিতে প্রতীয়মান হয় তিনি ঘটনার দিনে মাদকাসক্ত ছিলেন না। তিনি সুস্থ মাথায় খুন ও ধর্ষণ করেছেন। সোহেল রানার স্ত্রী চাইলেই অপরাধ ঠেকাতে পারতেন। উনি অপরাধ প্রিভেন্ট করার চেষ্টা করেননি।

এর আগে যুক্তিতর্ক শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না উদ্ভট আচরণ করেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে জোড় করে ধরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক নারী পুলিশ কনেস্টেবল থাপ্পর মারার ভয় দেখান। এর পরে স্বপ্না অনবরত কান্না করতে থাকে।

এসময় পিপি আসামিদের শুনানিতে আদালতে রাখার দরকার নেই বলে জানান। এসময় বিচারক বলেন, আসামি দুজনকে বলছি। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন আমি আপনাদের এখনই কারাগারে পাঠিয়ে দিবো। আজকে আপনাকের বলার কিছু নেই। যুক্তিতর্ক শুনানি হচ্ছে, আপনাদের পক্ষেও বলবে। এরপরে আদালতে শুনানি পুনরায় শুরু হয়।

অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেলের রিরুদ্ধে আমরা সকল অপরাধের ইস্পাতের মতো তথ্য প্রমাণ করতে পেরেছি এবং স্বপ্না অপরাধের কোন প্রিভেন্ট করেনি এবং লাশ গুমের সহায়তা করেছে ও আসামি সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। স্বপ্নাও ধর্ষণ ও হত্যায় সহযোগিতা করেছে।

পিপি বলেন, আসামি ডলারের বিষয়ে যেটা বলেছে-সেটা মামলায় কনফিউশন তৈরির জন্য। কারণ আসামি ১৬৪ ধারায় এমন কথা বলেনি। তখন ডলারের নাম বলেনি। আসামি ১৬৪ ধারায় কারাগারে যাওয়ার পরে অন্য আসামিদের কুবুদ্ধিতে মামলা দীর্ঘসূত্রিতা করার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেছে। মামলায় মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টির জন্য এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শুনান এবং বলেন সবাই সবার সাক্ষ্যে সমর্থন করেছেন। সবাই গলাকাটা লাশ দেখেছেন। এখানে কারও দ্বিমত নেই।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’  একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ