ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে এসে যুদ্ধের অভাবনীয় অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে। তারা কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গত চার সপ্তাহে আমাদের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমি সবসময়ই কূটনীতির পথে সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু ইরান সরকার ক্রমাগত পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে। প্রতিটি চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কিছু গোপন অস্ত্র ছিল যা কারো ধারণায় ছিল না। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনী সেগুলো চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল খুবই স্পষ্ট— ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতাকে পদ্ধতিগতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছি, বিমান বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এমন স্তরে আঘাত করেছি যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের মেরুদণ্ড আমরা ভেঙে দিয়েছি। এখন তাদের নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনীও নিঃশেষ। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার প্রায় শেষ অথবা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে পরাস্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, এই সামরিক পদক্ষেপগুলো ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলোকে সহায়তা করার ক্ষমতা কেড়ে নেবে। তাদের পরমাণু বোমা তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ করে দেবে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামরিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ আর নেই। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো এখন সমাপ্তির পথে।
যুদ্ধ আর দুই তিন সপ্তাহ চলবে জানিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এই সময়টাতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা আরও জোরদার করবে এবং তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেয়া’ হতে পারে।
এদিন ভাষণের সময় গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কম। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রণালী দরকার নেই। অন্যান্য দেশের দরকার।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও দাম বৃদ্ধির চাপ বেশি বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় কোনো তেল আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের এর প্রয়োজন নেই।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়ায় যায়। এই অঞ্চলটি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পায়, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত… আমরা সহায়তা করব, কিন্তু যেসব দেশ এই তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল, তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘাটতির মুখে পড়া দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও সিএনএন।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলেই প্রণালীটি আবার খুলে যাবে এবং ‘জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে’—যা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা দ্বিমত পোষণ করেছেন।
ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আমাদের অসাধারণ বন্ধু। আমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবো না। আমরা এই যুদ্ধের কাজ খুব দ্রুত শেষ করতে যাচ্ছি এবং আমরা জয়ের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।