ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনা দ্রুত সফল না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যদি শিগগিরই কোনো সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ না করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খারগ দ্বীপ এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দেবে। খবর আনাদোলুর।
ট্রাম্প লিখেছেন, চুক্তি না হলে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে আমাদের ‘অবস্থান’ শেষ করব।
কঠোর এই হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং নতুন নেতৃত্ব ‘আরও যুক্তিসংগত’ আচরণ করছে।
পরবর্তীতে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান সমঝোতায় আগ্রহী এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘অবিশ্বাস্যভাবে ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।
তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের মতো দেশগুলো দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনার আয়োজন করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে। এতে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহতসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের কড়া হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হলে তা মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।