রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক

নেপালে জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা গ্রেপ্তার

২০২৫ সালের বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর অভিযোগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ভক্তপুর জেলার গুন্ডু এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ, যা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
 
পুলিশ জানায়, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে ওই এলাকা থেকে ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেস নেতা রমেশ লেখাককেও তার বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে।
 
দেশটিতে গত সেপ্টেম্বরে জেন-জি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তার দায় আছে কি না সেটি তদন্ত করছে পুলিশ। খবর ইংলিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের। 
 
নেপালে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। স্বল্প সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করেছিল। বিক্ষোভের প্রথম দিনেই দমন-পীড়নে অন্তত ১৯ জন তরুণ প্রাণ হারান।
 
ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা মিন বাহাদুর শাহি বলেন, ‘আজ সকালে তাকে তার বাসভবন থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী ওলি এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধান গুরুং বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
 
বর্তমানে দুজনকেই ভদ্রকালী এলাকায় কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ সার্কেলে রাখা হয়েছে। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার তাদের আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
 
 
এদিকে এ ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিক্রিয়া। ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল জরুরি বৈঠক ডেকেছে ললিতপুরে। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়— এটি নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
 
এদিকে, র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ গত ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ওলি সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার একদিন পরই ওলির এই আটকাদেশ কার্যকর হলো।
 
উল্লেখ্য, গত বছর নেপালের সেই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংসদ ও সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে।
 
সরকার-সমর্থিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গুলি চালানোর সরাসরি কোনো নির্দেশ ছিল, এটি প্রমাণিত হয়নি। তবে গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, এবং এই অবহেলার কারণেই অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে।’
 
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ, যিনি ওই বিক্ষোভের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়… এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ নতুন পথে এগোবে।’

এই সম্পর্কিত আরো