ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করছে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএএফপি এ খবর জানায়।
দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রতিপক্ষ পিয়ংইয়ং এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও রোববার দেশটি মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে। তিনি তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিকে (কেসিএনএ) বলেন, ‘আমরা ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি ধ্বংস করছে এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।’
মুখপাত্র ইরানের ‘রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটন ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যানের যোগ্য। কারণ, এগুলো কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।’
দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, কিন্তু শীর্ষ বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের লক্ষ্যও রয়েছে।
গত অক্টোবরে এশিয়া সফরে ট্রাম্প বলেন, তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে ‘শতভাগ’ উন্মুক্ত। তবে উত্তর কোরিয়া এ মন্তব্যের কোনো জবাব দেয়নি।
কয়েক মাস ধরে এ ধরনের উদ্যোগ উপেক্ষা করার পর সম্প্রতি কিম বলেছেন, যদি ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থান মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।