ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৮ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, সালেহ আহমেদ আজমান এলাকায় নিহত হন। তিনি পানি সরবরাহের কাজ করতেন।
সালেহ আহমেদের পুরোনো বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গাজীটেকায় বাড়ি করেন। সালেহ আহমদ স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান পাল্টা অভিযান শুরু করার পর এ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
নিহত অপর দুজন হলেন- পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক। হামলার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও, ইরানের ছোড়া দুটি শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও মাঝপথে ভূপাতিত করেছে আমিরাতি বাহিনী। তবে বিশাল এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির কিছু অংশ আবাসিক এলাকায় আঘাত হানায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনও উড়ে এসেছে আমিরাতের দিকে। রাডারে মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি ড্রোন আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো মূল্যে আকাশপথ নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।