ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরানজুড়ে ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের কবলে।
রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় কেবল খামেনিই নন, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রবিবার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিলো অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।-সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশন’ বা ‘বড় যুদ্ধ অভিযান’ ঘোষণা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সারা সপ্তাহ বা প্রয়োজনে তার চেয়েও বেশি সময় ধরে বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে হামলায় ১০৮ জন ও ২৪টি প্রদেশে অন্তত ২০১ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরান তার প্রতিশোধমূলক হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব ও ইরাকে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।