ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর আগে বহুবার তার মৃত্যুর খবর ছড়ানো হলেও এবারের সংবাদ অনেকটাই নিশ্চিত। তাঁর মৃত্যুতে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস এজেন্সি-এর বরাতে আল-জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
খবরে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনেয়ি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, খামেনেয়ি নিহত হয়েছেন।
সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনেয়ির নিহতের তথ্য স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনেয়ির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান।
ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার সকালের দিকেই মারা গেছেন খামেনেয়ি। তিনি ওই সময় অফিসে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এছাড়াও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনেয়ির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই নিহত হয়েছেন। রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, “এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!” আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।