বিশ্বব্যাপী পণ্যে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ ধার্যের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক এক্স বার্তায় এই ঘোষণা দেন তিনি।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্ক বাতিল করে রায় দেয়। তৎক্ষণাৎ এটিকে হতাশাজনক উল্লেখ করে পাল্টা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের অধীনে বিশ্বব্যাপী পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
কিন্তু শনিবার তিনি ঘোষণা করেন, আগে কখনো ব্যবহৃত হয়নি এমন একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে এই শুল্ক বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সীমানায় নেওয়া হবে।
ওই আইন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আগে প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত এই নতুন শুল্ক কার্যকর রাখতে পারবে। ১০ শতাংশ শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্ধিত ১৫ শতাংশ শুল্কও ওই একই দিন থেকে কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার শুল্কের ওপর যে ‘হাস্যকর, নিম্নমানের এবং চরমভাবে আমেরিকা-বিরোধী রায়’ দিয়েছে, তা পর্যালোচনার পর তার প্রশাসন এই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত জানায়, প্রেসিডেন্ট গত বছর ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যে ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা ছিল তার ক্ষমতার বহির্ভূত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আইইইপিএ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সংগ্রহ করেছে।
রায়ের পরপরই ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘আদালতের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত’ এবং যারা তার বাণিজ্য নীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন সেই বিচারপতিদের ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি মূল অংশ। তার মতে, এটি ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগ না করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদন ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত তার দ্বিতীয় মেয়াদের এজেন্ডার জন্য একটি বড় ধাক্কা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই শুল্ক প্রয়োজনীয়। তবে এই সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে মার্কিন ব্যবসায়ীরা এখন অবৈধভাবে নেওয়া শুল্কের টাকা ফেরত চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারে। সূত্র- বিবিসি।