আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় মোতায়েন করা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের বড় একটি অংশ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া সরকার নিজ দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালনে সম্মত হওয়ায় সেখানে বর্তমানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর বিশেষ প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
২০১৫ সাল থেকে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে সেখানে আইএসের শক্তি অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। যাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি শর্তসাপেক্ষ বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আল-তানফ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে, নির্দেশিত মিসাইল ধ্বংসকারী এবং কয়েক ডজন ফাইটার জেটসহ বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বর্তমানে ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার কথা বললেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব জোরালো করার চেষ্টা করছে। গত নভেম্বরে শারা হোয়াইট হাউস সফর করেন, যা সিরিয়ার কোনো নেতার জন্য ইতিহাসে প্রথম। গত জানুয়ারিতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে গত ডিসেম্বরে পালমিরায় আইএসের অতর্কিত হামলায় আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য ও একজন অনুবাদক নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ নামে একাধিক অভিযান চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়।