রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক

১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ:

নিউইয়র্কে দুর্যোগ সহায়তা তহবিল জালিয়াতি মামলায় আট বাংলাদেশির দোষ স্বীকার

কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ দুর্যোগ তহবিল থেকে হাজার হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে নয়জন অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন পাকিস্তানি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দোষ স্বীকারের অংশ হিসেবে তাদের মোট দশ লাখ (এক মিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ (রেস্টিটিউশন) হিসেবে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুইন্সের জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউ ইয়র্ক স্টেটের ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং -এর দপ্তর সুত্রে এ খবর জানা গেছে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজ বলেন, এই নয়জন অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিপর্যস্ত ব্যবসাগুলোকে সহায়তার জন্য বরাদ্দ নিউ ইয়র্ক রাজ্যের তহবিল থেকে তারা হাজার হাজার ডলার চুরি করেছেন। এই তহবিল ছিল নজিরবিহীন সংকটে নিউ ইয়র্কবাসীকে টিকে থাকতে সহায়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোষ স্বীকারের ফলে এখন তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে। আমি আমার দপ্তরের ফ্রডস ব্যুরো এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিসকে ধন্যবাদ জানাই, যারা তাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, ব্যক্তিগত লাভের জন্য দুর্যোগ সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার সব সময়ই অপরাধ এবং লজ্জাজনক, তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটের সময় তা আরও বেশি নিন্দনীয়। আজকের দোষ স্বীকার এবং করদাতাদের এক মিলিয়ন ডলার উদ্ধারের জন্য আমার দপ্তরের নিবেদিত দল, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজ ও তার সহকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশীদারদের ধন্যবাদ। লোভকে জনস্বার্থের ওপরে রাখার ঘটনা নিউ ইয়র্ক কখনোই মেনে নেবে না।

নয়জন অভিযুক্ত মে ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে চতুর্থ ডিগ্রির গ্র্যান্ড লারসেনি ও পেটি লারসেনির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং তাদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার নিউ ইয়র্ক স্টেটে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ডিএ কাটজ জানান, তদন্তে দেখা গেছে ২০২০ সালের জুনের দিক থেকে অভিযুক্তরা নিউ ইয়র্ক স্টেটের 'এম্পায়ার ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম'-এর আওতায় একাধিক ছোট ব্যবসার নামে বহু আবেদন জমা দেন।

প্রতিটি আবেদনে তারা দাবি করেন যে অর্থটি বেতন, বাণিজ্যিক ভাড়া বা মর্টগেজ, ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য সরঞ্জামের খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজন। কিন্তু বেশিরভাগ অর্থ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

ব্যাপক ব্যাংক রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনুদান পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর কোনো প্রকৃত কার্যক্রম ছিল না এবং জমা দেওয়া ট্যাক্স রিটার্নে উল্লেখিত আয়ের বা ব্যয়ের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর প্রথমে এই তহবিল অপব্যবহারের তদন্ত শুরু করে এবং ২০২৪ সালের মে মাসে মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরে হস্তান্তর করে।
অভিযোগের কথা জানার পর অভিযুক্তরা ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মে’র মধ্যে পৃথকভাবে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেন।

এই তদন্ত পরিচালিত হয় কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায়, পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক পুলিশের একটি বিশেষ দল সহায়তা প্রদান করে।

আদালতে দোষ স্বীকার করা অভিযুক্তরা হলেন: অ্যাস্টোরিয়া (কুইন্স)-এর মাহবুব মালিক (৪১), জ্যামাইকা (কুইন্স)-এর তুফাইল আহমেদ (৫০), এলমহার্স্ট (কুইন্স) ইউসুফ এমডি (৪৫), জ্যাকসন হাইটস (কুইন্স)-এর মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮),নিউ হাইড পার্ক (নাসাউ কাউন্টি)-এর নাদিম শেখ (৫৬), জ্যামাইকা (কুইন্স)-এর জাকির চৌধুরী (৫৯), জ্যামাইকা হিলস (কুইন্স)-এর মোহাম্মদ খান (৪৯),ফার্মিংডেল (নাসাউ কাউন্টি)-এর  তানভীর মিলন (৫৫) এবং সাফোক কাউন্টি জুনেদ খান (৫৬)।

এই সম্পর্কিত আরো