আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলম্বিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা ‘সাতেনা’ পরিচালিত একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের একজন পদপ্রার্থীও রয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নর্তে দে সান্তান্দের কুরাছিকা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, কলম্বিয়ার উত্তরে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সাতেনা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের একটি ‘বিচক্রাফট ১৯০০’ মডেলের বিমান ‘মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে’, তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। পরে পাহাড়ি একটি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।
কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে যে বিমানে থাকা কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যই বেঁচে নেই। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সাতেনা পরিচালিত ফ্লাইটটিতে ১৩ জন যাত্রী এবং দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন দিওজেনেস কুইনতেরো, যিনি কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হওয়া ৯ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির নিম্নকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি তার অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার রক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এছাড়া বিমানে তার দলের সদস্য নাতালিয়া অ্যাকোস্টা এবং আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। কুইনতেরো ২০২২ সালে শান্তি চুক্তির অধীনে সৃষ্ট বিশেষ ১৬টি আসনের একটি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা কলম্বিয়ার সংঘাতকবলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হতো।
বিমানের যাত্রাপথ সম্পর্কে জানা গেছে যে, ‘এইচকে৪৭০৯’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই বিমানটি স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে সান্তান্দেরের রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে ওকানাযর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। সাধারণত এই রুটে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যারা এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি প্রতিকূল আবহাওয়া দায়ী ছিল তা খতিয়ে দেখবে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মার্কেজও এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করে বলেন যে, এই ঘটনা পুরো দেশকে শোকাহত করেছে।