ভারতের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। শনিবার (১১ এপিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বুকের সংক্রমণ ও শারীরিক অবসাদের কারণে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেওয়ায় শনিবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামীকাল তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
আশা ভোসলের বহুমুখী প্রতিভার কারণে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ আট দশকের কর্মজীবনে তিনি হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন।
ভারতীয় সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন।
এছাড়াও দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ এবং ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।
১৯৩৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। চার বোনের মধ্যে লতা, উষা ও আশা প্লেব্যাক শিল্পী হয়েছিলেন, মীনা হয়েছিলেন সুরকার। ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরও সংগীতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা চড়াই-উতরাই। ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোসলে-কে বিয়ে করেন, তবে পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মনকে বিয়ে করেন, যিনি তার থেকে বয়সে ছোট ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যুর পর একা জীবন কাটান এই শিল্পী। বর্তমানে ৯২ বছর বয়সী এই শিল্পী নিয়মিত প্লেব্যাক থেকে সরে এলেও সম্প্রতি পর্যন্ত লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নিচ্ছিলেন।