মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম
১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: - ভোটের আগে-পরে মোটরসাইকেল ৩ দিন, অন্যান্য যান ২৪ ঘণ্টা বন্ধ লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নির্বাচনে আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পেরেছি: ইসি আনোয়ারুল শ্রীপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সিস্টেম আপগ্রেডেশন: - সাময়িক বন্ধ থাকবে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭০ কোটি ডলার রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: তারেক রহমান শিগগিরই ওমানে খুলছে বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজার
বিনোদন

স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠী সম্মাননা অ‍্যাওয়ার্ড পেলেন কণ্ঠশিল্পী রুক্সী আহমেদ

জাকির হোসেন আজাদী : স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠী সম্মাননা পদক ২০২২ পেয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুক্সী আহমেদ। গত (২৯ ডিসেম্বর ২০২২) বৃহস্পতিবার স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ” বিজয় উৎসব ২০২২” অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিন্স আলমগীর।

স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি (ফ্রান্স) নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীত শিল্পী নোলক বাবু।

এই পদক বিষয়ে কণ্ঠশিল্পী রুক্সী আহমেদ -এর সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি তাঁর সঙ্গীত জীবনের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আমি এই অ‍্যাওয়ার্ড পেয়ে খুবই খুশী হয়েছি। তবে ইতিপূর্বেও অনেক অ‍্যাওয়ার্ড পেয়েছি। যেমন – উইমেন এন্ড চাইল্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন পুরস্কার, ট্র্যাব award, বারি সিদ্দিকী সম্মাননা– এগুলো সাম্প্রতিক সময় পেয়েছি। বতর্মানে আমি স্টেজ শো ও টিভি অনুষ্ঠান এবং শিক্ষকতা নিয়ে ব‍্যস্ত সময় পার করছি। আমার প্রায় ৫০০ এর মত মৌলিক গান করা হয়েছে।”

Imported from WordPress: image-67-1.png

রুক্সী সর্বশেষ তিনি আনোয়ার পারভেজের কথায় এবং বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক মান্নান মোহাম্মদ এর সুরে একটি মৌলিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারেই সঙ্গীতের একটা পরিবেশ ছিল। মোটামুটি সবাই সংগীতানুরাগী এবং আমার আম্মু ও কাজিনদের অনেকেই গান গাইতেন। আমার নয় বছর বয়সে প্রথম রাজশাহীতে শেখ আব্দুল আলীম এর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের হাতেখড়ি নেয়া হয়। কয়েক বছর উনার কাছে শেখার পর ঢাকায় সুধীন দাস এবং বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক খন্দকার নূরুল আলমের কাছে দীর্ঘদিন গান শেখার সৌভাগ্য হয়।

তিনি বলেন, “গান নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। তবে সময় ও সুযোগ বুঝে তা বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ। আমার দর্শক শ্রোতার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা খুবই আন্তরিকভাবে আমাকে মনে রেখেছেন। যদিও আমি খুব বেশি মিডিয়ায় উপস্থিত হইনি। মূলত উনাদের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। সকলের জন্য রইল আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।”

Imported from WordPress: image-70-1.png

উল্লেখ্য যে, গানকে কখনোই পেশা হিসেবে নেননি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী রুক্সী আহমেদ। কিন্তু গান করেছেন শতভাগ পেশাদারির সঙ্গে। শিক্ষকতাই তাঁর সব সময়ের পেশা। আগামী বছর শিক্ষকতায় ২৮ বছর পূর্ণ হবে তাঁর। ১৯৯৫ সালে লালমাটিয়া মহিলা কলেজে যোগ দেন রুক্সী। এখন তিনি এ কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তাঁর বিভাগে দুই থেকে আড়াই হাজার ছাত্রী। কলেজের কাজে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকেন। গানের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়।

রুক্সী জানালেন, তিনি শুরু থেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি গান গেয়েছেন। ১৯৯১ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘সেই চেনা মুখ’ প্রকাশিত হয়। তারপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে কলেজে ঢোকেন। চাকরিতে ঢোকার বছরই তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘মনচোরা’ প্রকাশ হয়। কখনোই গান ও পেশা এ দুটোর সংঘর্ষ হয়নি। এখন গান থেকে কিছুটা দূরে থাকার কারণ শুধুই চাকরি নয়। ক্যাসেট থেকে সিডি হলো। সিডি থেকে এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। গানের জগতে যে অবিরাম পরিবর্তন, এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোন মাধ্যমে কীভাবে গান করা যায়, তা নিয়ে ভাবতেই সময় বয়ে গেছে তাঁর।

রুক্সীর মা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। চাকরি করেও মাকে সময় দিতে হয়েছে তাঁর। তারপর ২০১৪ সালে মা মারা যান। একটা সময় রুক্সীকে গানের জগতে দৌড়ঝাঁপের ব্যাপারে মা সাহায্য করতেন। এটা বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাসেটের যুগে পাটুয়াটুলীতে সব অডিও কোম্পানি ছিল। এটা ছিল রুক্সীর জন্য সুবিধার। সব কোম্পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়ায় এগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও আগের মতো মসৃণ নেই তাঁর। তার পরও তিনি গান ছাড়েননি। এখনো নিয়মিত স্টেজ শো করেন। দেশের বাইরে শেষ কনসার্ট করেছেন জাপানে। করোনার কারণে বাতিল হয়েছে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও মালয়েশিয়ার কনসার্টগুলো।

টিভি চ্যানেলের ‘লাইভ’ গানের অনুষ্ঠানে গেয়ে থাকেন রুক্সী। তবে মিউজিশিয়ান ভালো না হলে, আয়োজন ঠিকঠাক না থাকলে ‘লাইভে’ গাইতে চান না তিনি। এসব অনুষ্ঠানে অন্য শিল্পীদের গান গাওয়ার চাপ থাকে। অথচ তাঁর নিজের গাওয়া মৌলিক গানের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০। রুক্সী বললেন, ‘আমাদের নব্বইয়ের দশকের শিল্পীদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর উচিত আমাদের গানগুলো গাওয়ার সুযোগ দেওয়া। আমি রুক্সী আমার নিজের দশটা গান গাইব, এটাই স্বাভাবিক। আমরা যারা এত কষ্ট করে মৌলিক গান গেয়ে এ জায়গায় এসেছি, তাদের অন্য শিল্পীর গান গাইতে বললে দুঃখ লাগে। এ জন্য আমি অনেক সময় লাইভ প্রোগ্রামে যাই না। আর গেলেও আগে জিজ্ঞেস করে নিই, তোমারা কি আমাকে নিজের গান গাওয়ার সুযোগ দেবে?’

রুক্সী একই প্রসঙ্গে আরও বললেন, ‘যারা জীবিত আছে, সুস্থ আছে, যারা এখনো ভালো গান গাইতে পারে, তাদের গান কেন আমি গাইব? তাদের ডাকলেই পারে। সিনিয়রদের গান আমাদের গাইতে বলে শিল্পীদের অপমান করছে, আমাদেরও অপমান করছে। যাদের নতুন গান নেই, তাদের দিয়ে হারানো দিনের গান গাওয়াতে পারে, কাভার সং গাওয়াতে পারে। যেসব শিল্পী আর বেঁচে নেই, তাদের সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের রয়েছে। সেই শিল্পীদের গান গাইতে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যে শিল্পীরা এখনো ভালো গাইতে পারে, সেসব সিনিয়র শিল্পীর গান নতুন শিল্পীরা বিনা কারণে কেন গাইবে?’

রুক্সী উদাহরণ টানলেন সেই সময়ের বিটিভির। সেখানে একটা অনুষ্ঠানে পুরোনো দিনের গান গাইতেন নতুন শিল্পীরা। আরেকটা অনুষ্ঠানে শিল্পীরা যে যাঁর নিজের গান গাইতেন। রেডিওতে সব সময় নিজের গানই করেন বলে জানালেন রুক্সী। ১০০ গানের একটা খাতা বানিয়ে রেখেছেন। রেডিওতে ধরে ধরে সেসব গানই করেন। অডিও মাধ্যম বলে সেখানে সুরের প্রতি লক্ষ‍্য রাখতে হয়, গায়কির প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। এটা তাঁর খুবই ভালো লাগে। টিভিতে লাইভ গেয়ে রেডিওর মতো আনন্দ পান না তিনি।

রুক্সীর প্রশ্ন, সব গানের অনুষ্ঠানই ‘লাইভ’ হতে হবে কেন? ‘আগে আমরা লিপসিং করতাম। দর্শকেরা মজা পেত। লাইভ প্রোগ্রামে হাতে গোনা কিছু ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা যায়। আপনি কি লাইভে সন্তুর ব্যবহার করতে পারছেন? অথচ আমাদের এমন গানও আছে যেখানে স্যাক্সোফোন, সরদ, কী না ব্যবহার করেছি! আগে স্টুডিওতে একদল মিউজিশিয়ানস যেত, আরেক দল আসত। ঈদের সময় মনে হতো স্টুডিওতে উৎসব চলছে। আর এখন? সুরকারেরা যে যার বাসায় স্টুডিও তৈরি করে ফেলেছে।’

রুক্সী আক্ষেপ করলেন, ‘এক লাইন করে গেয়ে রেকর্ডিংয়ের চল হয়েছে আজকাল। এভাবে কি গানের ভেতর ঢোকা যায়? আগে আমরা পুরো গান একবারে গাইতাম। সুরকাররা বলতেন, পুরো গান না গাইলে গানকে ধারণ করা যাবে না। দেবু ভট্টাচার্য, খন্দকার নুরুল আলম, শেখ সাদী খানদের কিছু গান আমিও গেয়েছি। তাঁরা বলতেন, পুরো গান না গাইলে ভেতরের ইমোশন আসবে না। গেয়ে ফেলার পর যে জায়গাগুলোতে উচ্চারণ ঠিক নেই, ওই জায়গাগুলো কারেকশন করে নেওয়া হতো। তবুও এক বসাতেই পুরো গান গাইতে হবে।’

Imported from WordPress: image-71-1.png

রুক্সীর আক্ষেপ আছে মঞ্চে গাওয়ার ব্যাপারেও। ‘মঞ্চে মেলোডি গান গাওয়ার সুযোগই পাই না। আগেই নাচের গান গাওয়ার আবদার, “গরম গান করেন।” তবে কি ভালো গানগুলো শুনবে না কেউ?’ প্রশ্ন রুক্সীর। রুক্সী মনে করেন, গানের জগতে যে এলোমেলো অবস্থা, সবাইকে এক জায়গায় বসে এগুলো ঠিক করে নেওয়া উচিত। ‘আমরা গানের মানুষেরা একাত্ম‍্য নই। আমাদের দেশের গানগুলো কিভাবে সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাবে, তার একটা নির্দেশনা থাকা উচিত। আমাদের সংগীত জগতের কোনো সম্মিলিত সংগঠন নেই। আমরা সংগঠিত হলে গানটাকে এগিয়ে নিতে পারতাম।’

প্রায় ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে ৭/৮টা একক অ্যালবামে গেয়েছেন রুক্সী। ১৪/১৫টা মিশ্র অ্যালবামে গেয়েছেন। প্রায় ১০০ সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন। জিঙ্গেলও করেছেন শ খানেক। অসংখ্য গান গেয়েছেন টিভিতে ও বেতারে। তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ,কুয়েত, বাহারাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ,সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ২০টি দেশে স্টেজ শো করেছেন। তাঁর মৌলিক গানের সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি। যার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু গান ছাড়া অনেক গানই কম প্রচারিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এসব গানের মধ্য থেকে শ খানেক গান বাছাই করে নতুনভাবে প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে তাঁর। নতুন মাধ্যমে পুরোনো রেকর্ড করা গানগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। গান নিয়ে এটাই আপাতত পরিকল্পনা নব্বইয়ের দশকের আলোচিত এই কণ্ঠশিল্পী রুক্সী আহমেদের।

Imported from WordPress: image-72-1.png

এই সম্পর্কিত আরো

১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটের আগে-পরে মোটরসাইকেল ৩ দিন, অন্যান্য যান ২৪ ঘণ্টা বন্ধ

লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

নির্বাচনে আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পেরেছি: ইসি আনোয়ারুল

শ্রীপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

সিস্টেম আপগ্রেডেশন: সাময়িক বন্ধ থাকবে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা

২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭০ কোটি ডলার

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে: তারেক রহমান

শিগগিরই ওমানে খুলছে বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজার