এবার বলিউড অভিনেতা ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। আমিরের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে পরিচিত এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। পোস্টে দাবি করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তারা মেনে নেবে না এবং অভিনেতাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই পোস্টের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আমিরের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে অভিনেতাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন। পরে অযোধ্যার ধর্মীয় নেতা জগৎগুরু পরমহংস আচার্য আরও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে ঘোষণা করেন, আমির খানকে হত্যা করতে পারলে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির আইনি লড়াইয়ের খরচও বহনের ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে বজরং দলও আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তোলে। বিহারের ফোর্বসগঞ্জে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন, ‘আমির খান ভারত ছাড়ো’ স্লোগান দেন এবং অভিনেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। সংগঠনের এক নেতা অভিযোগ করেন, আমির বারবার হিন্দু পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করে সমাজকে অপমান করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আমির খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অভিনেতা আমিন হাজি। তিনি বলেন, আমির সব সময় সম্পর্ককে সম্মান করেছেন এবং প্রতিটি সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও সাবেক পরিবার ও সন্তানদের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনা হলেও মানুষ তাঁর সেই দিকটি দেখেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের বাসভবনে গৌরী স্প্র্যাটকে আইনিভাবে বিয়ে করেন আমির খান। গত মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
এর আগে ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন আমির। ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন তিনি। ২০২১ সালে সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। বর্তমানে দুই সাবেক স্ত্রীর সন্তানদের প্রতিপালনে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এই অভিনেতা।