শিক্ষা কারিকুলাম পর্যালোচনা করে দেশে একটি যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে শুধু ‘হাই জাম্প’ দিলেই চলবে না, দিতে হবে ‘মোর মোর জাম্প’। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করব। তিনি শিক্ষাকে ভালোবাসেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তার বড় অংশ শিক্ষার উন্নয়ন। শিক্ষাব্যবস্থার প্রত্যেকটি জায়গায় নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আছে। আমরা দক্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনো কম। আগে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, তারপর বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে তা হতাশাজনক। আগে ঠিক করতে হবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দ। বড় জ্ঞানী না হলেও বোঝা যায়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ফলে বাজেটে জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ দুই শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে। এটি পাঁচ বা ছয় শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
কারিকুলাম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে লং জাম্প নয়, আমাদের পোল জাম্প দিতে হবে। প্রশ্নফাঁস আর হবে না। কারিকুলাম রিভিউ করা হবে, তবে পেছনের বিষয় নিয়ে নয়, ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেব।” ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষাখাতে কোনো দুর্নীতি হয়নি এবং এবারও হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ‘নকল বন্ধ’ও শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রসঙ্গ উঠলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করাই আমার লক্ষ্য। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিতে হবে, যাতে উন্নত দেশগুলোও আমাদের শিক্ষা ও গবেষণাকে মূল্যায়ন করে। দেশের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে করতে আমি কাজ করতে চাই। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘হাস্যকর অবস্থান’থেকে উন্নত পর্যায়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।