শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সিআইডি পরিচয়ে নারী অপহরণের চেষ্টা, সাবেক সেনা-নৌ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজন খালাস এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করতে পারবেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও ৯ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী হাতিয়ায় ৭৬০ বস্তা সারসহ পাঁচ পাচারকারী আটক বেনাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার সহকারী নিহত, শিক্ষকসহ আহত ২ ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে আইসিএসবির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ সিরাজগঞ্জে তরিকুল হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন
advertisement
সম্পাদকীয়

আজ হোলি আর্টিজানে নৃশংস হামলার এক বছর, অনাহুত শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে

বাংলাদেশের গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের অনেকের মনে দৃঢ় ছাপ রেখেছে সেই হামলার ঘটনা।কারণ ওই হামলার ফলে বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মত এই ধরনের নৃশংস হামলার কবলে পড়ে, খবরের শিরোনাম হয় বিশ্বব্যাপী।গত এক বছরে বাংলাদেশ সরকার-জঙ্গি নির্মূলে ব্যাপক তৎপরতার চালিয়ে আসছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

২০১৬ সালের জুলাই এর এক তারিখের মধ্যরাত থেকে শুরু করে ২ তারিখ সারাদিন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর ছিল একই বিষয় নিয়ে। গুলশানের হোলি আর্টিজান নামের রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা।

১লা জুলাই রাতেই জঙ্গিরা ২০ জনকে হত্যা করে যাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। তিন জন বাংলাদেশি। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশও প্রাণ হারান।পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ছয় জন নিহত হয়। আইএস এর পক্ষ থেকে এদের মধ্যে পাঁচজনকে তাদের ‘সৈনিক’ বলে দাবি করে, হামলার দায় নেয় তারা। 

“জুলাইতে হামলা হয় আগস্টেই আমাদের এলাকা থেকে সব বিদেশিরা বাসা ছেড়ে দেয়। তবে বর্তমানে সে অবস্থা এখন আর নেই শঙ্কা কেটে গেছে। 

কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে পরিচিত ঢাকা গুলশানের এই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময় অন্য স্থানগুলোর চেয়ে বেশি।
তার মধ্যেও যেহেতু এমন হামলা হয়েছে সেটা মানুষের মনে কঠিন একটা ভয়ের ক্ষত তৈরি করেছে। এক বছর পেরিয়ে গেলে্ও ভুক্তভোগী পরিবারের মনে এখনো শঙ্কা কাজ করে।

আবার অনেকেই মনে করছেন জঙ্গি দমন অভিযান বিষয়ে মানুষের মনে এক ধরনের অস্বচ্ছ ধারণা রয়ে যাচ্ছে প্রত্যেকবার। তাই সেটাও একটা নতুন বিড়ম্বনা বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কোনো কোনো ঘটনা আছে সঠিক কোন তথ্য ছাড়াই একজনকে ধরা হচ্ছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী পাওয়া যাচ্ছে বা কেন তাকে ধরা হলো পরিস্কার করে কিছু আমরা জানতে পারছি না, যেটা নাগরিক হিসেবে ভালো উপলব্ধি দিচ্ছে না”। 

সম্প্রতি আতিয়া মহলসহ বেশ কয়েকটি সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। গুলশান হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে জঙ্গি হামলার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। যার সাথে সম্ভবত দেশের কেউ পরিচিত ছিলো না।

তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সেসব মানুষকে পুরোপুরি স্বস্তি দিতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে কারণ এক বছর পর এখনো অনেকের মনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভয়াল সেই রাতের অভিজ্ঞতা। 

এক বছর পর দেশের সার্বিক নিরাপত্তা সন্তোষজনক হলেও সাধারণের মনে যে শঙ্কা ও ভীতি রয়ে গেছে তার দূর করার দায়িত্ব সরকারকে পালন করতে হবে, সেই সাথে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ