বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর আইএফআইসি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস ! দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির হৃদয়ের রেকর্ড ট্রিপল-সেঞ্চুরি - দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করল বাংলাদেশ ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কো-ব্র্যান্ডেড মাস্টার ডেবিট কার্ড সেবা চুক্তি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
advertisement
সম্পাদকীয়

আজ হোলি আর্টিজানে নৃশংস হামলার এক বছর, অনাহুত শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে

বাংলাদেশের গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের অনেকের মনে দৃঢ় ছাপ রেখেছে সেই হামলার ঘটনা।কারণ ওই হামলার ফলে বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মত এই ধরনের নৃশংস হামলার কবলে পড়ে, খবরের শিরোনাম হয় বিশ্বব্যাপী।গত এক বছরে বাংলাদেশ সরকার-জঙ্গি নির্মূলে ব্যাপক তৎপরতার চালিয়ে আসছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

২০১৬ সালের জুলাই এর এক তারিখের মধ্যরাত থেকে শুরু করে ২ তারিখ সারাদিন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর ছিল একই বিষয় নিয়ে। গুলশানের হোলি আর্টিজান নামের রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা।

১লা জুলাই রাতেই জঙ্গিরা ২০ জনকে হত্যা করে যাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। তিন জন বাংলাদেশি। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশও প্রাণ হারান।পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ছয় জন নিহত হয়। আইএস এর পক্ষ থেকে এদের মধ্যে পাঁচজনকে তাদের ‘সৈনিক’ বলে দাবি করে, হামলার দায় নেয় তারা। 

“জুলাইতে হামলা হয় আগস্টেই আমাদের এলাকা থেকে সব বিদেশিরা বাসা ছেড়ে দেয়। তবে বর্তমানে সে অবস্থা এখন আর নেই শঙ্কা কেটে গেছে। 

কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে পরিচিত ঢাকা গুলশানের এই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময় অন্য স্থানগুলোর চেয়ে বেশি।
তার মধ্যেও যেহেতু এমন হামলা হয়েছে সেটা মানুষের মনে কঠিন একটা ভয়ের ক্ষত তৈরি করেছে। এক বছর পেরিয়ে গেলে্ও ভুক্তভোগী পরিবারের মনে এখনো শঙ্কা কাজ করে।

আবার অনেকেই মনে করছেন জঙ্গি দমন অভিযান বিষয়ে মানুষের মনে এক ধরনের অস্বচ্ছ ধারণা রয়ে যাচ্ছে প্রত্যেকবার। তাই সেটাও একটা নতুন বিড়ম্বনা বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কোনো কোনো ঘটনা আছে সঠিক কোন তথ্য ছাড়াই একজনকে ধরা হচ্ছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী পাওয়া যাচ্ছে বা কেন তাকে ধরা হলো পরিস্কার করে কিছু আমরা জানতে পারছি না, যেটা নাগরিক হিসেবে ভালো উপলব্ধি দিচ্ছে না”। 

সম্প্রতি আতিয়া মহলসহ বেশ কয়েকটি সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। গুলশান হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে জঙ্গি হামলার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। যার সাথে সম্ভবত দেশের কেউ পরিচিত ছিলো না।

তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সেসব মানুষকে পুরোপুরি স্বস্তি দিতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে কারণ এক বছর পর এখনো অনেকের মনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভয়াল সেই রাতের অভিজ্ঞতা। 

এক বছর পর দেশের সার্বিক নিরাপত্তা সন্তোষজনক হলেও সাধারণের মনে যে শঙ্কা ও ভীতি রয়ে গেছে তার দূর করার দায়িত্ব সরকারকে পালন করতে হবে, সেই সাথে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ