বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। লিটারে এক লাফে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। যা রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
রোববার (১২এপ্রিল) বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২ (খ) ও ৩৪ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়।
বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফেব্রুয়ারিতে ফার্নেস অয়েলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব কমিশনে দাখিল করে।
পরবর্তীতে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড বিপণন ও পরিবহন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ প্রস্তাবগুলোর ওপর ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি মার্চ মাসে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের প্রকাশিত প্লাটস রেটের গড় এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন বিবেচনায় এপ্রিল মাসে ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করার সুপারিশ করে।
পরবর্তীতে ৫ ও ১২ এপ্রিল বিশেষ কমিশন সভায় বিপিসির সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের এই মূল্যহার সমন্বয় করে বিইআরসি।
বিপিসির ফার্নেস অয়েলের গ্রাহক শ্রেণিতে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্প কারখানা ও অন্যান্য গ্রাহক।
এর আগে ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য ছিল প্রতি লিটার ৭০ দশমিক ১০ টাকা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই তেলের দাম লিটারে ১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। দুই মাসের মাথায় আবারও বড় অংকের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয়।