টানা চার দফা বাড়ার পর অবশেষে দেশের বাজারে কমলো সোনার দামে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এতে দেশের বাজারে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে বসে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, সবশেষ গত ১ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫২ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩০ দফা এবং কমানো হয়েছে ২২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬৪ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এদিকে সোনার দামের পাশাপাশি এবার দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। এবার ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা।
এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে ১৭ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৪ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১০ বার এবং কমানো হয়েছিল মাত্র ৩ বার।