কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে করাচির উদ্দেশে যাত্রা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সরাসরি ফ্লাইট।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান জানান, ১৬২ আসনের উদ্বোধনী এই ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ২০১২ সালে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর এটিই হবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট, যা দুই দেশের যাত্রী চলাচল ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকা ত্যাগ করবে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার সরাসরি যাত্রা শেষে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। প্রথম ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরাও সফরসঙ্গী থাকবেন।
বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, প্রথম ফ্লাইটের সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটের সিটও ৮০ শতাংশের বেশি বিক্রি হয়েছে। এখন যারা যাত্রা করছেন, আগে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তাদের অনেক ঘুরতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় সময় অনেক কমে এসেছে। তিন ঘণ্টার মধ্যেই যাত্রা সম্পন্ন হবে এবং প্যাসেঞ্জারদের ট্রানজিটের ঝামেলাও নেই, তাই ভ্রমণ হবে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুত।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই ঢাকা-করাচি রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (পিসিএএ) বিমান বাংলাদেশকে এই রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগে উল্লেখযোগ্য সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট মেনে চলতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যাত্রীদের অধিকাংশকেই দুবাই বা দোহার মতো মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন এই সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রুটটি পুনরায় চালু করার জন্য গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্প্রতি কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত সহযোগিতার সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই রুটটি পুনরায় চালু হচ্ছে।
এছাড়া টিকেট বুকিং ও ফ্লাইট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিক্রয় অফিস, অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্ট, বিমান কল সেন্টার (১৩৬৩৬ / +৮৮০৯৬১০৯-১৩৬৩৬) অথবা বিমানের ওয়েবসাইটে (www.biman-airlines.com) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।