বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনাম
কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত আবারও আরসিএস সনদ অর্জন করল এপেক্স ফুটওয়্যার চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ সুন্দরবনে জলদস্যু জোনাব বাহিনীর ৩ সদস্য আটক ; অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার পটুয়াখালীতে সেতুতে দৃশ্যমান ত্রুটি, অ্যাপ্রোচে পুরোনো ইটের খোয়া ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ডিবিএ’র বৈঠক অনুষ্ঠিত সরকারি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ শুরু হবে: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ  নিয়ে এলো “অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” ও মোবাইল অ্যাপ “পিট্রেড”
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

এক মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রে সুদ-আসল পরিশোধ বেড়ে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুদের হার কমাসহ বিভিন্ন কড়াকড়ির কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস নেমেছে। সে কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে এই খাত থেকে কোনো ঋণ নিতে পারছে না সরকার। উল্টো আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ১ হাজার ৬১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ঋণাত্মক (নেগেটিভ) হয়েছে। অক্টোবর শেষে খাতটিতে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিলো ৬৩২ কোটি টাকা ঋণাত্মক (নেগেটিভ)। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের সুদ ও আসল পরিশোধ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

তথ্য মতে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের আগে বিনিয়োগ করা সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। উল্টো ১ হাজার ৬১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সরকার তার কোষাগার ও ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেছে।

এর আগে২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মাসে সরকার সংগ্রহ করেছিলো ১৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরো অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকারের যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার ৯৫.২২ শতাংশই অর্জিত হয়েছিলো। গত অর্থবছরে বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। এই টাকা সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য খরচ করেছিল। সে কারণে ব্যাংক থেকে খুব একটা ঋণ নিতে হয়নি।

চলতি বছরের অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৯৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক (নেগেটিভ) ছিল। এর আগের সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৭০ কোটি ৬৩ হাজার টাকা ঋণাত্মক (নেগেটিভ) ছিল। তার আগের মাস আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ কোটি টাকা। এছাড়া অর্থবছরের প্রথম মাসে জুলাইতে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

এর আগে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সর্বশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পর থেকেই বিক্রি কমছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার। এর বিপরীতে প্রথম ৫ মাসে এই খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার, উল্টো ১ হাজার ৬১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা কোষাগার ও ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ