বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড, ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি সই

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সাড়ে তিনটায় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৫ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চালাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিপত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। 

প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন-নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই চুক্তির লেনদেন-সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “বাংলাদেশের পোর্ট ব্যবস্থাপনায়, কনটেইনার হ্যান্ডেলিং আধুনিক এবং প্রত্যাশা অনুসারে বিশ্বের মানদণ্ডের কাছে চলে যাচ্ছে। শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে তিনটিই এখন বাংলাদেশে এবং চিটাগাং পোর্টে"।

তিনি আরো বলেন, “নিশ্চিত করেছি আমাদের স্বার্থ, নিশ্চিত করেছি আমাদের অধিকার, নিশ্চিত করেছি আমাদের অর্থনৈতিক প্রাপ্তি, নিশ্চিত করেছি আমাদের কারিগরী বা টেকনিকেল যোগ্য অর্জনের প্রাপ্তি”।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর আওতায় ২০১৯ সালে এনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়। এর আগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড দীর্ঘদিন এটি পরিচালনা করে আসছিল। তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক দায়িত্বে ছিল।

এনসিটি হলো চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল, যেখানে মোট ৫টি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এখানে রয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড ও কনটেইনার অবস্থান সময় (ডুয়েল টাইম) হ্রাস পাবে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ