শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
1st Quarter Financial Statements of Shinepukur Ceramics Ltd. নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য - প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু হ্যান্ডহেল্ড গার্মেন্ট স্টিমারসহ নতুন পার্সোনাল কেয়ার ডিভাইস আনল শাওমি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ব্যাংকিং খাতে প্রথম ওয়েবভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করল ইউসিবি ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৭ প্রাণহানি, পলাতক সেই বাসচালক গ্রেফতার আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৭১তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ, সাতকানিয়া থানার ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’: ক্যাশলেস অর্থনীতিতে নতুন যুগ

দেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ এখন নগদবিহীন (ক্যাশলেস) অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে ‘বাংলা কিউআর’ চালু বা এর সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে।

আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে। এর ফলে শপিং মল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ী পর্যন্ত সর্বত্র একটি মাত্র অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক শাহারিয়ার সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলা কিউআর’ শুধু একটি পেমেন্ট প্রযুক্তি নয়, এটি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করায় সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সমন্বিত ছিল না। ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো।

এখন ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে একজন ব্যবসায়ীর দোকানে একটি মাত্র কিউআর স্টিকার থাকলেই চলবে। গ্রাহক তাঁর বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

‘বাংলা কিউআর’ এর মূল সুবিধাগুলো:
স্বল্প খরচ ও সর্বজনীনতা: প্রচলিত কার্ড পেমেন্টের জন্য দোকানে যে ব্যয়বহুল পিওএস (POS) মেশিনের প্রয়োজন হতো, বাংলা কিউআরে তার দরকার নেই। একটি সাধারণ কাগজের কিউআর স্টিকার দিয়েই ক্ষুদ্র ও পথের দোকানদাররা ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে পারবেন।

উচ্চ নিরাপত্তা: এতে কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো কোনো ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি নিরাপদ লেনদেন সম্পন্ন হয়।

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: দেশীয় পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের কারণে লেনদেনের সব তথ্য দেশের মধ্যেই সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হ্রাস পাবে।

সহজে জামানতবিহীন ঋণ: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লেনদেন ডিজিটাল ট্র্যাকে আসায় তাদের একটি 'ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি' তৈরি হবে। এর ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে তাদের সহজে জামানতবিহীন ঋণ দিতে উৎসাহিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রায় সব ব্যাংক, এমএফএস এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডাররা (পিএসপি) বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির ফলে সরকারের নগদ অর্থ ছাপানো, পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিপুল ব্যয় কমে আসবে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আসায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণ এবং একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ দেশের অর্থনীতিতে গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।

 

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ