বাংলাদেশের বাজারে বহুজাতিক ও লোকাল কোম্পানীর স্বনামধন্য ব্র্যান্ডগুলোর হুবহু নকল ও অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পণ্য অননুমোদিত কারখানায় উৎপাদিত হয় ও ‘গ্রে চ্যানেল’-এর মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করে, যার ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারায়, অন্যদিকে ভোক্তারা প্রতারিত হয় উচ্চদামে নিম্নমানের ভেজাল পণ্য ব্যবহার করে।
সম্প্রতি, ঢাকার চাঁনখারপুল-সংলগ্ন চকবাজার এলাকায় একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রে চ্যানেলের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকৃত বিপুল পরিমাণ ‘নবরত্ন’ ব্র্যান্ডের পণ্য শনাক্ত করা হয়। অথচ একই ব্র্যান্ডের মানসম্মত পণ্য ইমামী বাংলাদেশ লিমিটেড গাজীপুরে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন করে যা ভোক্তারা কম মূল্যে কিনতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভোক্তারা অবগত নন যে, ইমামী বাংলাদেশ লিমিটেড এর একই পণ্য দেশেই বৈধভাবে এবং তুলনামূলক কম মূল্যে উৎপাদিত হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীরা বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হন, ফলে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয় বৈধ কাগজপত্র এর জন্য। ততদিন পর্যন্ত তারা এইসব পণ্য বিক্রয় করতে পারবেননা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তেমনি ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বৈধ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকেও জোর দিচ্ছে।
এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে নকল ও অবৈধ পণ্যের প্রবাহ কমবে এবং ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে—যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।