ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিবুল ইসলাম (২৭) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মৃত্যু হয়েছে। তাকে প্রকাশ্যে চার রাউন্ড গুলি করার পর ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত রাকিবের বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তাদের বাসা পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকায়। রাকিব শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি পেশায় একজন ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফুঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার রাত ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রকাশ্যে ৪ রাউন্ড গুলি করে। ওই সময় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় একজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আটকের পর তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ রাকিবুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জিএম ইশান জানান, রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু শহিদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হয়। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিবুল নামের ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন তারা।
অন্যদিকে হাসপাতালে আহত রাকিবুলের বন্ধু রনি জানান, ঘটনার সময় রাকিবুলসহ তাদের কয়েকজন মেয়ে বন্ধু শহিদ মিনারের পাশের চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন। ওই সময় এক যুবক রাকিবুলকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ পেয়ে তারা শহিদ মিনারের উপরে গিয়ে দেখেন রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় গুলিবিদ্ধসহ শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন ছিল। ওই সময় সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলে। বর্তমানে সে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছে।