সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা এলাকায় পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে দুই বিএনপি কর্মী নিহতের ঘটনায় দুই দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে থানায় মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় নতুন করে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- গোয়ালপাড়ার ফজলার রহমানের ছেলে মো. লিটন (৪০) এবং পার্শ্ববর্তী জামতৈল কানাদিগি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আন্নাস আলী (৪০)।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, নিহত আব্দুস সালামের ছেলে মো. জব্বারুল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি জানান, লিটন ও আন্নাসকে নাটোরের সিংড়া উপজেলা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থক গোয়ালপাড়ার আছমত আলী, আশরাফ আলী ও তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালপাড়ায় প্রায় পাঁচ বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাসপুকুরের দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আছমত আলী স্থানীয় একটি মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবুবক্কার সিদ্দিক পুকুরটির লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
সোমবার সকালে আবুবক্কার সিদ্দিক লোকজন নিয়ে পুকুরে জাল ফেলতে গেলে আছমত আলী বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আছমত আলীর পক্ষের চারজন এবং আবুবক্কার সিদ্দিকের পক্ষের সাতজন গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুবক্কার সিদ্দিকের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৬০) ও একই পক্ষের ইসমাইল হোসেন (৭০) মারা যান।
উল্লেখ্য, একই পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও ফজলার রহমান নামে একজন নিহত হয়েছিলেন।