কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক কিশোরী নিহত হয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে ৬৪-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামে এক কিশোরী নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আদিল নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত শিশু টেকনাফের হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে হোয়াইক্যং লম্বাবিলের হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। সেইসঙ্গে টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে হোয়াইক্যং সীমান্তের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তোতারদ্বীপ এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি চলছিল। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন। রোববার সকালে গুলি করতে করতে আরাকান আর্মির সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় এক শিশু ও এক যুবক। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয়রা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারসহ বিজিবির কাছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।’
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর মো. আলমগীর ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীতে হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।