শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জে এনসিপির ১৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে জাহাজ এলো চট্টগ্রামে মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত ঈদের আগেই বাড়ছে ফেরি, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস লাক্স সুপারস্টার হলেন বর্ণিতা হামের প্রাদুর্ভাব: - চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বেনাপোল শুন্যরেখায় ১৩০ ফুট সুউচ্চ মাস্তুল, সীমান্তে উড়বে গৌরবের পতাকা
সারাদেশ

সাইপ্রাসে ছাদ থেকে পড়ে শার্শার হাফিজুরের মৃত্যু

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি: সাইপ্রাসে নির্মাণ কাজের সময় ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন যশোরের শার্শা উপজেলা প্রবাসী হাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।

মাত্র ১৩ দিন আগে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে সংসার-পরিজন ছেড়ে ইউরোপের এই দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন হাফিজুর। কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটে গেল এক নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে। হাসপাতালে ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মঙ্গলবার রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ছেড়ে যাওয়া দেনার বোঝা—সব মিলিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার। স্থানীয়রা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

উপজেলায় ৫নং পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তানজিলা খাতুন বলেন, “সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়েছিলেন হাফিজুর। কিন্তু তাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল পরিবার। দ্রুত মরদেহ যেন দেশে ফেরত আসে, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।”

গ্রামের প্রবীণ আজগার আলী বলেন, “মানুষের ভাগ্য কখনো সহজ হয় না। হাফিজুরের দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে সতর্ক করছে। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন আমাদের কর্তব্য।”

প্রবাসী পরিচিত নয়নচৌধুরী যোগ করেন, “বিদেশে যাওয়াটা জীবিকার জন্য প্রয়োজন, কিন্তু দুর্ঘটনার ভয় সবসময় থাকে। হাফিজুরের মৃত্যু হৃদয় বিদারক।”

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন।

বিদেশে গিয়ে প্রবাসী হওয়া হাফিজুরের স্বপ্ন এখন মরদেহ হয়ে ফিরে আসছে। আর তার পিছনে রইল শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার, অনিশ্চয়তার বোঝা এবং চোখের জলে ভেজা পুটখালী গ্রামের আকাশ।

এই সম্পর্কিত আরো