বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-আগুন রোববার থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ শুরু অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজির ঘাটতি নেই, আসছে ১৯ কার্গো: পেট্রোবাংলা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে অভিনন্দন - একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ টাকার প্রকল্প অনুমোদন শার্শায় দুই মোটরসাইকেল থেকে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, আটক ১ নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৬৩ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার সিলেটে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
advertisement
সারাদেশ

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-আগুন

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে এ সময় পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফুটপাতের হকার ও ব্যবসায়ীদের কয়েকজন ডিএনসিসির তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সময় একটি ভেকু (খননযন্ত্র) ও পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিব হোসেন এ তথ্য জানান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে।

অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের একটি দলকে অবস্থান করতে দেখা যায়। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর পৌনে ১২টার পরও ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এর জবাবে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় পুলিশের সদস্যদের তুলনায় ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি ছিল। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলের মুখে পুলিশ সদস্যরা কিছুটা পিছু হটে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিজমের আমল থেকে যারা ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তারা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।’ নগরসেবার জন্য এবং নগরবাসীকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিজমের দোসররা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে। এ সময় তার সঙ্গে মিরপুর জোনের বিভাগীয় ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, স্থানীয় ও মিরপুর থানার কর্মকর্তারা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাকিবুল হাসান এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অরাজকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্ত করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি। অবৈধভাবে কাউকে ফুটপাত দখল করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, তারা ফ্যাসিজমের দোসর এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মিরপুরের সন্তান, আমার জন্ম এখানে। কারা কী করে, আমার চেয়ে বেশি কেউ জানার কথা নয়।’ তাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ