সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৭ দুই বছর পর চালু হচ্ছে কলকাতা-খুলনা  বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২৮ সেপ্টেম্বর তাল্লু স্পিনিংয়ের বোর্ড সভা শিবপুরে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে ঘরবাড়ি গাছপালা বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা নির্ধারণ - ১ জুলাই থেকে সরকারি পেনশন কার্যকর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী সিগারেট-ওষুধসহ ১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
advertisement
সারাদেশ

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে ঘরবাড়ি গাছপালা বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। ঝড়ের পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়া পরিবারগুলো আরও দুর্ভোগে পড়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় এবং পাশের শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ও মাথাফাটা এলাকায় এ ঝড় বয়ে যায়। এতে বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়। এরপর শুরু হয় ঝোড়ো বাতাস ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে প্রায় এক মিনিটের তীব্র ঝড়ে ছোট-বড় অনেক গাছ উপড়ে পড়ে। পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের পর থেকেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (এক চোখ দৃষ্টিহীন)শফিকুল ইসলাম।অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন।গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকায় তাঁর বসতঘর ও রান্নাঘর ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। উড়ে গেছে ঘরের টিনের চালা। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে টিন ও কাঠের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের মাচাও।এতে করে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

শুধু শফিকুল ইসলাম নন, গোরকপুর ও পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার বহু পরিবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ঝড়ে বসতবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও সবজিরও ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ঝড়ের পর থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল দাবি করেন, দুই গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গেছে, তাঁতের ক্ষতি হয়েছে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।’

ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হয়েছি।ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ