শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
1st Quarter Financial Statements of Shinepukur Ceramics Ltd. নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য - প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু হ্যান্ডহেল্ড গার্মেন্ট স্টিমারসহ নতুন পার্সোনাল কেয়ার ডিভাইস আনল শাওমি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম ব্যাংকিং খাতে প্রথম ওয়েবভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করল ইউসিবি ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৭ প্রাণহানি, পলাতক সেই বাসচালক গ্রেফতার আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৭১তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ, সাতকানিয়া থানার ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
advertisement
সারাদেশ

জুলাই শহীদ ছেলের সরকারি অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা ও রাজধানীতে বসবাসরত অবস্থায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ারের পরিবারকে দেওয়া সরকারি অনুদানের সোয়া ১২ লাখ টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। তবে আব্দুল মতিনের দাবি, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি নিজের সামর্থ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ও মমতাজ বেগমের (৪৫) বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামে। তাঁদের একমাত্র ছেলে ছিলেন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। ১০ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানও রয়েছে তাঁদের।

শাহরিয়ার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তাঁর ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তিনি মারা যান। এরপর বিভিন্ন ধাপে সরকারি অনুদানের অর্থ দেওয়া হয় তাঁর পরিবারকে।

সূত্র জানায়, গত ২৯ মে ছেলের ভাতার অনুদান থেকে সাত লাখ টাকার কাবিন ও সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সেই স্ত্রীকে বাড়িতে তোলেন।

পরিবারের দাবি, এ খবর জানার পর ২ জুন একমাত্র মেয়ে মুমতাহিনাকে নিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন শাহরিয়ার এর মা মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে বিরত রাখেন।

ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে শহীদ ছেলে শাহরিয়ার বিন মতিনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়া ও অল্প সময়ে অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

মমতাজ বেগম বলেন, ‘সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আমার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমার জানামতে তাঁর হাতে বিয়ে করার মতো বা সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য নেই। আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তিনি।'

মমতাজ বেগম আরও বলেন, ‘আমার ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য আমাকে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, উনার বংশ রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করতে হবে।’

আরও অভিযোগ করে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আব্দুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে পুঁজি করে শুরু থেকেই নানা ধরনের ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। বারবার নিষেধ করার পরেও আব্দুল মতিন আমার কোনো কথাই শোনেননি। দুই বউয়ের ভরণপোষণের কোনো সামর্থ্য তাঁর নেই। তারপরও তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।’

মমতাজ বেগম আরও বলেন, ‘আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আব্দুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য আমার স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি সতর্ক থাকায় সেটি সফল হয়নি। এছাড়া শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টাও করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার এখন একটাই চাওয়া আমার মেয়েটিকে মানুষ করে যেতে চাই। একই সঙ্গে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার বংশ রক্ষার জন্য আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিশেষ করে, আমার মায়ের অনুরোধে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। এ ছাড়া বিয়ে করার আগে প্রথম স্ত্রী আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু এখন তিনি অস্বীকার করছেন।’

আব্দুল মতিন আরও বলেন, ‘আমি আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছি। বিয়ে করে সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য আমার আছে। ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।'

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আব্দুল মতিন বলেন, ‘বিয়ে করার পর আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে আনতে পাঁচবার বাসায় গিয়েছি। মেয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। সবশেষ অন্য একজনকে নিয়ে গেলে বাসায় ঢুকতে দেয়, তবে আমাকে অসম্মান করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।' এ সময় নববধূর নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদ শাহরিয়ারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার সঙ্গে আব্দুল মতিন জড়িত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় তার আগের মতো প্রভাব বা দাপট আর দেখা যায় না বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ