দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্তদের সাফল্য উদযাপনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ড. সলিমুল্লাহ খান।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি জহির উদ্দিন স্বপন এমপি তার বক্তব্যে সিএ’কে অন্যতম সম্মানজনক পেশাগত যোগ্যতা উল্লেখ করে সমাবর্তিতদের অভিনন্দন জানান। তিনি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন জোরদার এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরাণ্বিত করতে চার্টার্ড একাউন্টেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা এনালিটিক্সের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবাদে এই পেশায় দ্রুত রূপান্তর ঘটছে। তিনি নতুন চার্টার্ড একাউন্টেন্টদের উদ্ভাবনকে আলিঙ্গন করে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেদের কৌশলগত পরামর্শক ও আর্থিক খাতে নেতৃত্বের ভূমিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান। সিএ পেশায় সততার গুরুত্বও তুলে ধরে তিনি বলেন, একাউন্টিং পেশার মূল ভিত্তি হলো মানুষের আস্থা।
সমাবর্তন বক্তা ড. সলিমুল্লাহ খান চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টদের বিস্তৃত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানকারী হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন এফসিএ জানান, জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিএবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত চার্টার্ড একাউন্টেন্সি শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার অক্ষুণ্ণ রেখেছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২২ থেকে নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য এই সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে। তিনি নতুন সমাবর্তিত চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টদের নৈতিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার আহ্বান জানান।
সমাবর্তনটি নবীন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট এবং তাদের পরিবারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশের সেবায় পেশাদারিত্ব, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।