সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া এলাকায় যমুনা-সংযুক্ত আগুরিয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২২ থেকে ২৩ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও এখনো কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। এসব স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন নারী, শিশু ও বয়স্করা যাতায়াত করছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
হরিনাথপুর চর, বড়ইতলা, বেড়া খাওরুয়া, দসখাদা, মুলকান্দি, বাগভাংরা, নানাপুর চর ও বড়ধুলসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও বাজারসংক্রান্ত সব ধরনের যাতায়াত এই একটি পারাপারের ওপর নির্ভরশীল।
সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। বড় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হওয়ায় কৃষকদের স্থানীয় আড়তে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
নদীর ওপর প্রতিবছর স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এ কাজে বছরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। গ্রামবাসীরা পারাপারের বিনিময়ে ধান প্রদান করে এবং বাইরের লোকজনের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ টাকা আদায় করা হয়।
রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব খাঁন জানিয়েছেন, একাধিকবার সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে নতুন কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই।
বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, উপজেলার কয়েকটি সেতুর প্রস্তাব জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, ৭৫টি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে, না থাকলে পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


