ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ হিসেবে বুধবার মিনিয়াপলিসে এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে এক মোটরচালককে হত্যা করেছেন। ফেডারেল কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আত্মরক্ষার দাবি করলেও, শহরের মেয়র একে ‘বেপরোয়া ও অপ্রয়োজনীয় বলে বর্ণনা করেছেন।
গুলির ঘটনাটি মিনিয়াপলিস শহরের কেন্দ্রের দক্ষিণে একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে অভিবাসী বাজারগুলোর কয়েক ব্লক দূরে এবং ২০২০ সালে পুলিশি সহিংসতায় জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম টেক্সাস সফরে গিয়ে বলেন, এটি আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি গৃহস্থ সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড। তাঁর দাবি, এক নারী গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার ও ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নোয়েম বলেন, আমাদের একজন কর্মকর্তা দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিজেকে ও আশপাশের মানুষকে রক্ষায় গুলি করেন।
তবে মিনিয়াপলিসের মেয়র জেকব ফ্রে এই বর্ণনাকে ‘আজগুবি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল এই টুইন সিটিজ এলাকায় ২ হাজারের বেশি ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করেন।
ফ্রে বলেন, ওরা যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা আনছে না। ওরা বিশৃঙ্খলা আর অবিশ্বাস তৈরি করছে। তিনি ফেডারেল বাহিনীকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান। ওরা পরিবার ছিন্নভিন্ন করছে, আমাদের রাস্তায় অস্থিরতা ছড়াচ্ছে এবং এই ঘটনায় আক্ষরিক অর্থেই মানুষ হত্যা করছে।
মেয়র আরও বলেন, তারা আগেই এটাকে আত্মরক্ষার ঘটনা হিসেবে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। আমি নিজে ভিডিওটি দেখেছি সরাসরি বলছি, এটি সম্পূর্ণ বাজে কথা।
এই গুলির ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বড় বড় শহরে চলমান অভিবাসন অভিযানগুলোর এক নাটকীয় উত্তেজনাকর রূপ। নিহত চালকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের অভিযানে এটি অন্তত পঞ্চম মৃত্যুর ঘটনা।
ডিএইচএস মঙ্গলবার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই টুইন সিটিজ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অভিযান আংশিকভাবে সোমালি বাসিন্দাদের ঘিরে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
মিনিয়াপলিস পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, ৩৭ বছর বয়সী ওই নারীকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। তবে ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতো করে তিনি বলেননি যে ওই চালক কারও ক্ষতি করতে যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, নারীটি তাঁর গাড়িতে ছিলেন এবং পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউতে রাস্তা আটকে রেখেছিলেন। একসময় একজন ফেডারেল কর্মকর্তা হেঁটে তাঁর কাছে যান এবং তখন গাড়িটি চলতে শুরু করে। অন্তত দুটি গুলি ছোড়া হয়। এরপর গাড়িটি রাস্তার পাশে গিয়ে ধাক্কা খায়।
গুলির ঘটনার পর বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁরা স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপস্থিত ছিলেন গ্রেগরি বোভিনো যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরের অভিযানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগোর অভিযানের মতো এখানেও উপস্থিত জনতা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুয়ো দেয়, বাঁশি বাজায় এবং পুলিশ টেপের পেছন থেকে স্লোগান তোলে—’শেম! শেম! শেম!’ এবং ‘মিনেসোটা থেকে আইসিই বের হও!’
টেক্সাস সফরে নোয়েম নিশ্চিত করেন, টুইন সিটিজে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ‘শত শত’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রায় এক বছর ধরেই অভিবাসী অধিকারকর্মী ও পাড়াভিত্তিক সংগঠনগুলো সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উপাসনালয় থেকে শুরু করে মোবাইল হোম পার্ক পর্যন্ত তারা অনলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে, সন্দেহভাজন ফেডারেল যানবাহনের নম্বর প্লেট পর্যবেক্ষণ করে এবং অভিযান টের পেতে বাঁশি ও শব্দযন্ত্র সংগ্রহ করে।
মঙ্গলবার রাতে মিনেসোটায় অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোট ‘ইমিগ্রেশন ডিফেন্স নেটওয়ার্ক’ প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর জন্য একটি প্রশিক্ষণ অধিবেশন আয়োজন করে যারা রাস্তায় নেমে ফেডারেল অভিযানের ওপর নজরদারি করতে প্রস্তুত ছিলেন।


