কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভোটের মাঠে ৭ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মাঠে থাকছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।
পরিপত্রে জানানো হয়েছে, ‘ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন’ বা দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম চলবে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। যাতায়াত সময়সহ এই ৭ দিন সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী), বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ন নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বাহিনীভিত্তিক দায়িত্ব ও মোতায়েন
সশস্ত্র বাহিনী: স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তারা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার সুবিধাজনক স্থানে (নোডাল পয়েন্ট) অবস্থান করে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম চালাবে।
বিজিবি ও র্যাব: বিজিবি ও র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা: প্রতিটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে বিশেষ দল থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশ সদস্য অস্ত্রসহ নিয়োজিত থাকবেন।
গ্রাম পুলিশ ও ভিডিপি: গ্রাম পুলিশ বা দফাদাররা প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ দিনের জন্য এবং প্রান্তিক ভিডিপি সদস্যরা প্রশিক্ষণসহ মোট ৮ দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।
অন্যান্য বিধিনিষেধ: ভোটগ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল এবং ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব লাইসেন্সধারী ব্যক্তির অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং সেল’ কার্যকর থাকবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটের নিরাপত্তায় সদস্য সংখ্যা বিষয়ে যা জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন পৌনে ১৩ কোটি। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোটকক্ষ থাকবে। প্রাথমিক সভায় প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ৭ লাখের বেশি সদস্য এবার ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্বে পালন করবেন।
পরিপত্রটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন-
https://drive.google.com/file/d/1Wu471U8oaAJ7bNyXhPD9hGpmUlcIaGgz/view
আরও পড়ুন:


