কর্পোরেট ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাতের এক অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং সময়েও অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়লো ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। গত বছর (২০২৪) যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪,০৮২ কোটি টাকা, এ বছর তা রেকর্ড ভেঙে পৌঁছেছে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকায় – অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি, যা ইউসিবির ইতিহাসে আগে কখনো আসেনি।
শুধু আমানতেই নয়, গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধিতেও নজির গড়েছে ব্যাংকটি। ২০২৪ সালে যেখানে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল ৪.১১ লাখ, ২০২৫ সালে সেখানে ৬.৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ইউসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নতুন গ্রাহকের সংযোজন ইঙ্গিত করে যে ইউসিবির প্রতি মানুষের ভরসা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যাংকটির আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও (এডিআই রেশিও) ২০২৪ সালের ৯১.৩০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার একটি শক্তিশালী সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপন করতে ইউসিবির দেশের বিভিন্ন শাখা ও অফিসে আয়োজন করা হয় আনন্দঘন অনুষ্ঠানের। কেক কেটে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কর্মীরা সাফল্য ভাগ করে নেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকে সকল আমানতকারী, গ্রাহক, বিনিয়োগকারী, পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
এই সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, “প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আমানত প্রবৃদ্ধি গ্রাহকদের ইউসিবির প্রতি অটুট আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এই আস্থা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় দায়িত্বেরও। আমরা এই বছরে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি এবং প্রায় সমান পরিমাণ আমদানি অর্থায়ন করেছি, ডলারের দুর্বল বাজারেও এটি ইউসিবি’র শক্তি ও সামর্থ্যের পরিচয়। এই মাইলফলক অর্জনে ইউসিবির পুরো পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, “যখন সংখ্যা নিজেই গল্প বলে আর বিশ্বাস হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় শক্তি, তখন সাফল্য অনিবার্য। ইউসিবির এই অর্জন আমাদের টিমের পেশাদারিত্ব, সততা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। আগামীতেও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, ঝুঁকিনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
ইউসিবির এই রেকর্ড গড়া অগ্রযাত্রা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও গ্রাহকের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে প্রতিকূল বাস্তবতার মাঝেও ব্যাংকিং খাতে অনন্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।


